How to do Keyword Research in Easy Way

How to do Keyword Research in Easy Way

এসইও অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে দুনিয়াতে গুগলের প্রতিনিয়ত আপডেটের সাথে তাল মেলাতে আমাদের প্রায়শই হিমশিম খেতে হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের যে নিয়মটি এখনো বহাল তবীয়তে রয়ে গেছে সেটা হল, “কিওয়ার্ড রিসার্চ”।

তবে হ্যাঁ, কিওয়ার্ড রিসার্চ সেই আগের মত থাকলেও কিওয়ার্ডের ধরন ও গঠনে চলে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আগে যেখানে সাধারণ একটি কিওয়ার্ড দিয়েও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করা যেত খুব সহজেই, সেখানে এখন অনেক রিসার্চ করার পর তবেই একটি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডের উপর কাজ করলে সেটা র‍্যাংক করানো যায়। আর তাই এক অর্থে কিওয়ার্ড রিসার্চের নিয়মেও বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষণীয়। আসুন তাহলে জেনে নেই, কিওয়ার্ড রিসার্চ কীভাবে করতে হয় এবং আগের থেকে এখনকার কিওয়ার্ড রিসার্চের মধ্যে কি কি ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

কিওয়ার্ড রিসার্চ কি ? 

আসলে কিওয়ার্ড রিসার্চ হল এমন একটি উপায় যার মাধ্যমে জানা যায় মানুষ গুগুলে কি ধরনের কথা লিখে প্রতিনিয়ত সার্চ করছে। এছাড়া এই রিসার্চের মাধ্যমে সেই নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডটি কোথা থেকে সার্চ হচ্ছে এবং কারা সার্চ হচ্ছে সেটাও জানা যায়। আর সঠিক তথ্যগুলো জানা থাকলে সেই তথ্য এবং উপাত্ত ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডের ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটকে র‍্যাংক করানোও যায় খুব সহজে। আর তাই আপনার ওয়েবসাইটে কি ধরনের কন্টেন্ট লিখবেন অথবা কীভাবে লিখবেন ও রাখবেন সেটা জানার জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ খুবই জরুরী।

কিওয়ার্ড রিসার্চ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন ? 

বিগত দশ বছর ধরে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মধ্যে কীভাবে পরিবর্তন এসেছে সেটা আমরা সবাই জানি। আর এই মার্কেটে এখন ঠিক কতটা কম্পিটিশন সে কথা আর বলাই বাহুল্য। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ঝড়ে টিকে থাকার জন্য আপনাকে অবশ্যই কিওয়ার্ড রিসার্চটি অনেক সঠিক ভাবে করতে হবে। সঠিক ভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে সেই তথ্যকে কাজে লাগালেই কেবল এখন গুগুল সার্চে র‍্যাংক পাওয়া যায়।

এছাড়া এখনকার নিত্য নতুন গুগুল সার্চ এলগরিদমের কারণে এটাও সবাই জানে যে মানুষ যা লিখে সার্চ করছে, শুধুমাত্র সেটার সাথে মানিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করলেই এখন আর র‍্যাংক পাওয়া যায় না। বরং বর্তমানে সেই কন্টেন্টে আপনি কিওয়ার্ডটি কি জন্য রেখেছেন এবং কীভাবে ব্যবহার করছেন সেটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এছাড়া অনেক বেশি যে কিওয়ার্ড দিয়ে মানুষ সার্চ করছে তার পাশাপাশি সেই একই টপিকের উপর কম সার্চ করছে এমন কিওয়ার্ডও এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই নির্দিষ্ট একটি টপিকের মধ্যে কি ধরনের কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হবে সেটা জানার জন্য কিওয়ার্ড রিসার্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কিওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ? 

বর্তমানে গুগুলের এলগরিদম এমনভাবে আপডেট করা হয়েছে, যার মাধ্যমে গুগল বুঝতে পারে আপনি কি জন্য এবং ঠিক কীভাবে এই কিওয়ার্ডটি ব্যবহার করছেন। গুগল সবসময় ওয়েবসাইট মালিকদের সুবিধা কম দেখে বরং যারা সার্চ করছে তারা কি সঠিক তথ্যটি পেয়ে উপকৃত হল কি না সেটাই গুগলের মূল উদ্দেশ্য । আর তাই এখন শুধুমাত্র কিওয়ার্ড ব্যবহার করলেই হবে না বরং সেই কিওয়ার্ডটি সঠিক ভাবে ব্যবহারও করতে হবে। তা না হলে সাধের র‍্যাংকিং এর দেখা আর কখনই পাওয়া যাবে না।

আর তাই আপনার কিওয়ার্ডের সাথে সাথে কিওয়ার্ডটি আপনি কেন ব্যবহার করছেন আর সেটা কি মানুষের জন্য আদৌ উপকারী কি না এসব কিছুই র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, ধরুন আপনি “কীভাবে ব্লগিং শুরু করব” এই কিওয়ার্ডের উপর একটি আর্টিকেল তৈরি করতে চাচ্ছেন। এখানে এই কিওয়ার্ডটির মধ্যে ব্লগ শব্দটির কিন্তু বেশ কয়েকটি অর্থ আছে। যেমন ধরুন একটি আর্টিকেল হতে পারে ব্লগ আবার অনেকগুলো আর্টিকেল সমৃদ্ধ একটি ওয়েবসাইটকেও ব্লগ বলা হয়ে থাকে। আর তাই প্রথমেই বুঝতে হবে যারা “কীভাবে ব্লগিং শুরু করব” এই কথাটি লিখে সার্চ করছে তারা আসলে কি চায় ? তারা কি শুধু একটি ব্লগ পোস্ট কীভাবে লিখবে সেটা জানতে চায় নাকি একটি ব্লগ ওয়েবসাইটের ডোমেইন, হোস্টিং থেকে শুরু করে ডিজাইনের যাবতীয় বিষয়গুলো সহ জানতে চায়।

আর সঠিক ভাবে কিওয়ার্ডটি ব্যবহার করে আপনি কীভাবে আপনার লেখাকে র‍্যাংক করবেন তার জন্য সবচাইতে ভালো উপায় হল এই কিওয়ার্ডটি লিখে নিজেই সরাসরি সার্চ দেয়া এবং দেখা যে র‍্যাংক করা ওয়েবসাইটগুলো ঠিক কি ধরনের তথ্য দিচ্ছে ।

আজকের এই আর্টিকেলে কীভাবে এই সব তথ্য কাজে লাগিয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা যায় এবং কীভাবে খুব সহজেই আপনার নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে র‍্যাংক করাবেন সেই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করব।

 

কীভাবে শুরু করব সেই গুরুত্বপূর্ণ কিওয়ার্ড রিসার্চ ? 

প্রথম ধাপঃ টপিক সিলেক্ট করুন 

আপনি কি ধরনের আর্টিকেল লিখতে চাচ্ছেন এবং আপনার বিজসেনের জন্য কি ধরনের টপিকের উপর আপনার আর্টিকেল প্রয়োজন হবে তার একটা লিস্ট তৈরি করে রাখুন। এভাবে প্রাথমিক ভাবে আপনার ব্যবসার জন্য উপকারী এমন ৫-১০ টি খুব গুরুত্বপূর্ণ টপিক আলাদা করুন। এই টপিকগুলোর উপরেই ভিত্তি করে এখন আপনাকে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড বের করতে হবে।

আপনি যদি নিয়মিত ব্লগিং অর্থাৎ আর্টিকেল আপডেট করে থাকেন তাহলে আপনি যে টপিকগুলো বেশ জনপ্রিয় অথবা যে টপিকগুলো থেকে আপনার অর্থ উপার্জন হচ্ছে সে টপিকগুলোর উপরেই বেশি কাজ করে যাওয়া আপাতত বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যারা সার্চ দেয়, আপনি তাদের মত করে চিন্তা করুন। আপনার যে ওয়েবসাইটটি আছে সেই ওয়েবসাইটে একজন কাস্টোমার বা ভিজিটর হিসেবে আপনি কি চাইতেন? কি ধরনের কিওয়ার্ড দিয়ে আপনি সার্চ করতেন সেটা ভেবে দেখুন। ধরুন আপনার ওয়েবসাইটটি এসইও এর উপরেই তৈরি করেছেন।

এখন আপনার উদ্দেশ্য এসইও এর সফটওয়্যার বা টুলস বিক্রি করা। আবার অন্যদের টুলসের এফিলিয়েশনও আপনার উদ্দেশ্য হতে পারে। যেহেতু আপনার ওয়েবসাইটটি এসইও এর উপরে তাই আপনি অনেকগুলো টপিক খুঁজে পাবেন। তার মধ্যে কিছু টপিক নিম্নে বর্ণনা করা হলঃ

>> ইনবাউন্ড মার্কেটিং

>> ব্লগিং

>> ইমেইল মার্কেটিং

>> লিড জেনারেশন

>> এসইও

>> ডিজিটাল মার্কেটিং

>> সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইত্যাদি।

এখন এই টপিকগুলো দিয়েই কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে আপনাকে। দেখতে হবে প্রতি মাসে এই টপিকগুলোর মধ্যে কি কি ধরনের কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করা হয় এবং কত মানুষ প্রতি মাসে সেই নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডগুলো দিয়ে সার্চ করে। মূল টপিকের পাশাপাশি সেই টপিকের অন্তর্ভুক্ত আরো অন্যান্য সাব-টপিক নিয়েও আপনাকে একই ভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে কে এগুলো লিখে কতজন প্রতি মাসে সার্চ করছে।

দ্বিতীয় ধাপঃ সাব-টপিক খুঁজে বের করুন 

ইতোমধ্যে যেহেতু আপনার বেশ কয়েকটি টপিক সিলেক্ট করা আছে, এখন আপনাকে সেই টপিকগুলোর আরো কিছু সাবটপিক খুঁজে বের করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ আপনার ওয়েবসাইটের অন্যতম একটি টপিক যেহেতু এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন তাই এখন সেই টপিকের আরো কিছু সাবটপিক আপনাকে বের করে নিতে হবে। যেমনঃ

>> অন পেজ অপটিমাইজেশন

>> অফ পেজ অপটিমাইজেশন

>> কিওয়ার্ড র‍্যাংকিং

>> টেকনিক্যাল এসইও

>> ব্যাকলিংক কীভাবে করব, ইত্যাদি।

সাব টপিক খুঁজে বের করার মানে কিন্তু এই নয় যে আপনি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড খুঁজে পেয়ে গেছেন। এর মানে হল এই যে, আপনি নিজের টপিক এবং সাবটপিক নিয়ে ভাবলেন এবং অনেক কিছু নতুন করে জানলেন। আর এভাবেই একটি টপিককে ভেঙ্গে ভেঙ্গে আপনাকে একদম ছোট একটি টপিক বের করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, এখন অন পেজ অপটিমাইজেশনের মধ্যে কি কি আছে সেগুলো বের করতে হবে, যেমন মেটা ডেসক্রিপশন, ফোকাস কিওয়ার্ড রাখা, কিওয়ার্ড এর ঘনত্ব অর্থাৎ কতবার কিওয়ার্ডটি ব্যবহার করা যাবে ইত্যাদি।

এগুলো বের করার পরে বেশ কিছু কীওয়ার্ড টুলস আছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কোন কিওয়ার্ডটি র‍্যাংক করার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া আপনি যদি বেশ কিছুদিন ধরেই ব্লগিং করে থাকেন তাহলে কোন ধরনের কিওয়ার্ড দিয়ে মানুষ আপনার ওয়েবসাইট খুঁজে পাচ্ছে সেই কিওয়ার্ডগুলোর উপর কাজ করাও বেশ ফলপ্রসূ।

আর মানুষ কোন কোন কিওয়ার্ড দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটকে খুঁজে পাচ্ছে সেগুলো জানতে গুগল এনালাইটিক্স টুল ব্যবহার করুন। আপনার ওয়েবসাইট গুগল এনালাইটিক্সে এড করে এরপর ওয়েবসাইটের অরগানিক সার্চ রেজাল্ট থেকে খুব সহজেই বের করে ফেলতে পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত কিওয়ার্ডগুলো।

আপনার ব্যবসার জন্য যতগুলো টপিক খুঁজে বের করেছিলেন সেগুলোর সবগুলো নিয়েই এমন সাব-টপিক বের করে নিন এবং এভাবেই আপনি একদম সুনির্দিষ্ট কিওয়ার্ডগুলো খুঁজে বের করতে সক্ষম হবেন। এই ধরনের ক্ষেত্রে সবসময় নিজেকে একজন কাস্টোমারের দিক থেকে তুলনা করবেন আর ভাববেন যে একজন কাস্টোমার ঠিক কি কি ধরনের শব্দ বা বাক্য লিখে গুগুলে সার্চ দিতে পারে।

তৃতীয় ধাপঃ রিলেটেড কিওয়ার্ডের গুরুত্ব

সঠিক কিওয়ার্ডটি খুঁজে পেতে এই রিলেটেড কিওয়ার্ড খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে

কিওয়ার্ড রিসার্চের ক্ষেত্রে এই রিলেটেড কিওয়ার্ড বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোন নির্দিষ্ট টপিক দিয়ে সার্চ দিলে সেই টপিকের সাথে আরো কি ধরনের শব্দ বা বাক্য লিখে মানুষ সার্চ দেয় সেগুলোও চলে আসবে। আপনি যদি সঠিক কিওয়ার্ডটি খুঁজে পেতে কষ্ট হয়ে থাকে তাহলে এই রিলেটেড কিওয়ার্ড খুঁজে বের করার মাধ্যমেও নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলতে পারবেন।

অর্থাৎ আপনি যদি টপিকের পাশাপাশি সেই নির্দিষ্ট রিলেটেড কিওয়ার্ডগুলোও আপনার আর্টিকেলের মধ্যে রাখেন তাহলে গুগল খুব সহজেই বুঝে নিতে পারবেন আপনার আর্টিকেলটি আদতে ঠিক কি ধরনের এবং কি কি তথ্য আপনার আর্টিকেলের মধ্যে রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, আপনি যদি “কীভাবে ব্লগিং শুরু করব লিখে সার্চ দেন তাহলে বেশ কিছু রিলেটেড কিওয়ার্ডও গুগলের সার্চ পেজের নিচে চলে আসবেঃ

সবচাইতে মজার ব্যাপার শুরু হল ঠিক এখনই। আপনি যদি এই রিলেটেড কিওয়ার্ডগুলো থেকে একটি কিওয়ার্ড নিয়ে গুগলে আবার সার্চ দেন তাহলে সেই রিলেটেড কিওয়ার্ডেরও রিলেটেড কিওয়ার্ড আপনার সার্চ পেজের নিচে চলে আসবে। ধরুন আমরা “ব্লগ থেকে কিভাবে আয় করা যায়” নামক রিলেটেড কিওয়ার্ড দিয়ে আবার গুগলে সার্চ দিলাম। এখন এই কিওয়ার্ডটিরও রিলেটেড কিওয়ার্ড সার্চ রেজাল্টের সাথে চলে আসবে।

রিলেটেড কিওয়ার্ড খুঁজে বের করে তা কনটেন্টে ব্যবহার করলে গুগল সার্চ রেজাল্টে র‍্যাংক করা সহজ হয়ে যায়

এভাবে আপনি আপনার নির্দিষ্ট টপিকের সাথে সম্পৃক্ত এমন আরো কিওয়ার্ড খুঁজে পাবেন। তবে এগুলো খুঁজে পাওয়ার জন্যও অনেক ধরনের কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি টুলস রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে আপনি একবারেই সব কিওয়ার্ড বের করে ফেলতে পারবেন।

চতুর্থ ধাপঃ আপনার নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড রেখে কোন লং টেইল কিওয়ার্ড বা বড় কিওয়ার্ড খুঁজে বের করুন 

যদি কিওয়ার্ড এবং লং টেইল কিওয়ার্ডের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে আপনার জানা না থাকে তাহলে প্রথমেই সেটা বলে নেই। কিওয়ার্ড সাধারণত অনেক ছোট হয় এবং সুনির্দিষ্ট হয়ে থাকে। সাধারণত কিওয়ার্ডের মধ্যে এক থেকে তিনটি শব্দ থাকে। অপরদিকে লং টেইল কিওয়ার্ড হল যে কিওয়ার্ডের মধ্যে সেই সুনির্দিষ্ট কিওয়ার্ড থাকে আবার পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকটি শব্দ থাকে।

আপনার লং টেইল কিওয়ার্ডের মধ্যেও সুনির্দিষ্ট কিওয়ার্ডটি আছে কি না সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখুন। কেননা গুগলে র‍্যাংক করানোর জন্য লং টেইল কিওয়ার্ডের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিওয়ার্ড থাকাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আসুন তাহলে একটু চিন্তা করে দেখি “ব্লগিং” এবং “কীভাবে একটি ব্লগ লেখা শুরু করব” অথবা “ব্লগিং করে কীভাবে উপার্জন করব” এগুলোর কোনটি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড আর কোনগুলো লং টেইল কিওয়ার্ড ?

বুঝতেই পারছেন যে ব্লগিং শব্দটি এখানে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড, আর বাকিগুলো হল লং টেইল কিওয়ার্ড। যার একটির মধ্যে সরাসরি ব্লগিং শব্দটি আছে এবং অপরটির মধ্যে সরাসরি ব্লগিং লেখা না থাকলে ব্লগ কথাটি লেখা আছে। এটা বুঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, সরাসরি ব্লগিং শব্দটির মধ্যে গুগলে র‍্যাংক করানো খুবই কষ্টকর হলেও, কীভাবে একটি ব্লগ লেখা শুরু করব, এই বাক্যটিতে গুগুলে র‍্যাংক করানো অপেক্ষাকৃত সহজ।

কিন্তু লং টেইলে র‍্যাংক করানো সহজ কেন ?

কেননা যখনই কোন নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড হয়ে থাকে, তাহলে সেটা নিয়েও অনেক বেশি সার্চ হয়ে থাকে। তাই যখন লং টেইল কিওয়ার্ড দিয়ে কেউ সার্চ দেয়, সেটার মধ্যে র‍্যাংক করানো সহজ কেননা লং টেইল কিওয়ার্ডের ক্ষেত্রে কম্পিটিশন অপেক্ষাকৃত অনেক কম। আর তাই যখন আপনার কিওয়ার্ডের মধ্যে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড এবং লং টেইল কিওয়ার্ড থাকে, তখন সেটা র‍্যাংক করার সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায়।

পঞ্চম ধাপঃ আপনার প্রতিযোগীদের নিয়ে গবেষণা করুন 

তবে এটা মনে রাখতে হবে যে আপনা প্রতিযোগীরা কিছু একটা করছে তার মানে এই নয় যে আপনাকেও সেটা করতে হবে। ঠিক একই রকম কথা কিওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও কাজে দেয়। তবে সে যাই হোক, প্রতিযোগী নিয়ে আপনাকে গবেষণা করতে হবে আপনার ব্যবসাকে আরো বেশি এবং ভালোভাবে জানার জন্য ও বুঝার জন্য। কেননা আপনাদের কিওয়ার্ড আলাদা হতে পারে তবে কিওয়ার্ড র‍্যাংক করার উপায়গুলো কিন্তু একদমই এক রকম। তাই প্রতিযোগীদের উপর গবেষণা করে দেখুন যে তারা কীভাবে কোন একটি কিওয়ার্ড র‍্যাংক করাচ্ছে।

যদি প্রতিযোগীদের র‍্যাংক করা কিওয়ার্ডগুলোর মধ্যে আপনার কিওয়ার্ডও থেকে থাকে তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে যে এই কিওয়ার্ডগুলো নিয়ে আপনাকে আরো বেশি কাজ করতে হবে। তা না হলে প্রতিযোগীদের টপকে আপনি র‍্যাংক করতে পারবেন না। আর তাই যে ধরনের কিওয়ার্ড র‍্যাংক করানো বেশি কষ্টকর সেগুলোর দিকে পরে নজর দিন বরং যেগুলো খুব সহজেই আপনি র‍্যাংক করিয়ে ফেলতে পারবেন সেগুলোর দিকে প্রথমে নজর দিন এবং সেই কিওয়ার্ডগুলো নিয়েই কাজ শুরু করুন।

কিওয়ার্ডের এই কমপিটিশন বা প্রতিযোগিতা খুঁজে বের করার জন্য SEMrush খুব চমৎকার একটি টুলস। এই টুলসের বেশ কিছু অংশ আপনি ফ্রিতেই ব্যবহার করতে পারবেন। আর সেই ফ্রি অংশ দিয়েই আপাতত নিজের ওয়েবসাইটে কোন কিওয়ার্ড র‍্যাংক করাবেন সেটা খুঁজে বের করুন।

ষষ্ঠ ধাপঃ গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার ব্যবহার করুন 

এখন হয়ত আপনার কাছে অনেকগুলো কিওয়ার্ড রয়েছে এবং আপনি চাচ্ছেন সেগুলো থেকে কোন কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন সেগুলো বাছাই করে আলাদা করতে। এজন্য গুগলের কিওয়ার্ড প্ল্যানার একটি চমৎকার টুলস। আর গুগলে এনালাইটিক্সের মতই কিওয়ার্ড প্ল্যানার টুলস একদমই ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন।

এজন্য প্রথমেই আপনাকে গুগুল এডওয়ার্ডে একটি একাউন্ট তৈরি করতে হবে। আর একাউন্ট তৈরি করতে হবে, তার মানে এই নয় যে আপনাকে এডওয়ার্ডের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে হবে।

কিওয়ার্ড প্ল্যানারের মাধ্যমে আপনি কোন কিওয়ার্ড ঠিক কতবার সার্চ করা হচ্ছে সেটা খুব সহজেই বের করে নিতে পারবেন। কিওয়ার্ড প্ল্যানার ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি লং টেইল কিওয়ার্ডগুলো থেকে যে কিওয়ার্ডে কোন ধরনের সার্চই আসে না সেগুলো আলাদা করে ফেলতে পারেন। কেননা যে কিওয়ার্ড দিয়ে কেউ সার্চই করছে না সেখানে র‍্যাংক করে আপনার কি লাভ ?

এছাড়া এই কিওয়ার্ডগুলো দিয়ে কোন এলাকা থেকে বেশি সার্চ হচ্ছে সেটা আপনি বের করতে পারবেন Google Trends এর মাধ্যমে। আশার কথা হল google analytics এবং keyword planner এর মতই গুগুল টেন্ডসও একদম ফ্রিতে ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে আপনি দেখে নিতে পারবেন আপনার কিওয়ার্ডটি দিয়ে আপনার নির্দিষ্ট এলাকায় কেউ সার্চ দিচ্ছে কি না। এটা দেখে নেয়ার কারন হল, ধরুন আপনি চাচ্ছেন ঢাকার কাস্টোমার, কিন্তু আপনার কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করছে চট্টগ্রামের কাস্টোমার । তবে এলাকা যদি আপনার কাছে কোন অর্থ না রাখে, অর্থাৎ আপনি যদি সার্বজনিন ভিজিটর চান তাহলে এলাকা ভিত্তিক সার্চ না দেখলেও হবে।

আশা করি আপনার নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড খুঁজে পেয়েছেন !  

উপরে বর্ণীত উপায়গুলোর মাধ্যমে আশাকরি আপনি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডটি খুঁজে পেয়েছেন। এখন আপনাকে নজর দিতে হবে আপনার কন্টেন্টের উপরে। আপনার নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড, লং টেইল কিওয়ার্ড এবং রিলেটেড কিওয়ার্ডগুলো এখন যদি আপনি অন পেজ অপটিমাইজেশনের নিয়ম অনুযায়ী কন্টেন্টের মধ্যে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আশা করছি আপনার কিওয়ার্ডটি অবশ্যই র‍্যাংক হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখবেন, এসইও কোন নির্দিষ্ট একদিনের কাজ নয় বরং র‍্যাংক ধরে রাখতে হলে প্রতিনিয়তই আপনাকে এসইও করে যেতে হবে।

আর এভাবে কিওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনার ওয়েবসাইটের যত বেশি পেজ র‍্যাংক করাতে পারবেন ততই আপনার ওয়েবসাইটের ভ্যালু বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আরো মনে রাখবেন যে কিছুদিন পরপরই কিওয়ার্ড রিসার্চ করে যেতে হবে আর দেখে নিতে হবে সেই কিওয়ার্ডগুলো দিয়ে এখনো মানুষ সার্চ করে যাচ্ছে কি না !